অনেক হলো বাপু, এসব পঁচিশে বৈশাখ ফৈশাখে মাচা বানিয়ে বেসুরো গান টান গুলো
এবারে আইন করে বন্ধ করা উচিত। শুধু তাই কেন, অনুষ্ঠান চ্যানেল গুলোতেও
ক্যাবলাকান্ত সঞ্চালককে ধুতি পরিয়ে, পাউডার মাখিয়ে, স্ক্রিপ্ট ধরিয়ে বসানোটা ঠিক না। বেচারা কথায় কথায় রবিঠাকুরের এদিক সেদিক কথার তাৎপর্য
বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে একসা! ছুটির দিন, কোথায় একটু মাংসভাত খেয়ে
দুপুর বেলা পাশবালিশ জড়িয়ে বিউটি স্লিপ দিয়ে, বিকেল বেলা হাপপ্যান্টু পরা
আঁতেল সেজে সাউথ সিটিতে আইসক্রিম খেতে যাবে। তা না! এমনিতেই তো
রবীন্দ্রনাথ ছোটবেলা থেকে কম ঝামেলা করেনি। আষাঢ মাসে 'যাসনে ঘরের বাহিরে'
বলে caution-বাণী, আবার শ্রাবণেই দেখো 'মন দুলছে অকারণ হরষে' - ভাব
সম্প্রসারণ লিখতে লিখতে মগজ ডিপ ফ্রাইড। এট্টু কলেজ গন্ডিতে এসে যখন
প্রেমে হাবুডুবু, এদিকে ওদিক থেকে সিগনাল থেকেও নেই - 'আরে এত ভ্যানতারা করার কি আছে , তোমার কপালে আমিই নাচ্ছি' বলে ল্যাটা চোকাতে ইচ্ছে করছে, তখন আদতে sms করতে হচ্ছে 'আমার পরান যাহা চায়, তুমি তাই '। মানে, কি ন্যাকামো মাইরি!
ছোটবেলা বেলা থেকে এত রোমান্টিক পদ্য শেখালো বুড়ো, এট্টু ট্রিবিউট না হইলে
চলে? হতচ্ছাড়া ঢপবাজ প্রেমিক অনেক খেলা দেখিয়ে ফাইনালি বিদায় নিলে, রেগে
বলার উপায় নেই - 'যাক বাবা আপদ গেছে, বাঁচা গেছে'। নাঃ ! চোখ লাল করে,
সিগেরেট ধরিয়ে বলতে হবে 'তোমার লাগি অঙ্গ ভরি করব না আর সাজ, নাই বা তুমি
ফিরে এলে ওগো হৃদয়রাজ!' পাশের বাড়ির মঞ্জু কাকিমার সাথে, ওর অফিসের কোন এক
কলিগের কিসব চলছে, কিন্তু মন দেওয়ার যো আছে? এখনো কাদমম্বরীর দিস্তে দিস্তে
গোপন চিঠি বাজারে আসছে। ঐদিকটা ছাড়া যায়? আমি এসব দিক থেকে ছোট্টবেলা থেকেই
হেব্বি স্মার্ট ছিলাম। কারোর দয়ার আশায় বসে না থেকে, নিজেই রবীন্দ্রসঙ্গীত
লিখতে আরম্ভ করে দিয়েছিলাম। বছর পাঁচেক বয়সে অমন খাঁটি মার্কেটিং strategy কে মাথায় ঢুকিয়েছিল কে জানে!
রবীন্দ্রনাথ কে মাঝে মাঝে ভুলে যাওয়াটা দরকার। তাই এরপর যখন ট্রেনের জানলা দিয়ে বাইরে সবুজ, ওপরে নীল দেখতে গিয়ে চোখ আটকাবে, আর কিছু একটা বিড়বিড় করতে গিয়ে দুম করে গুনগুন করে উঠব - "নীল আকাশে কে ভাসালে, সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই, লুকোচুরির খেলা" - কাউকে শোনানোর জন্য নয়, স্রেফ আর কিছু গাইলে এত আরাম পাওয়া যাবে না বলে, তখনই তৈরি হবে কোনো মুহূর্ত, বা অনন্তকাল। যেভাবে হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষকে মনে পড়ে, যেভাবে অনেকদিন না গাওয়া প্রিয় গান মনে পড়ে, সেভাবেই। সহজে।
রবীন্দ্রনাথ কে মাঝে মাঝে ভুলে যাওয়াটা দরকার। তাই এরপর যখন ট্রেনের জানলা দিয়ে বাইরে সবুজ, ওপরে নীল দেখতে গিয়ে চোখ আটকাবে, আর কিছু একটা বিড়বিড় করতে গিয়ে দুম করে গুনগুন করে উঠব - "নীল আকাশে কে ভাসালে, সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই, লুকোচুরির খেলা" - কাউকে শোনানোর জন্য নয়, স্রেফ আর কিছু গাইলে এত আরাম পাওয়া যাবে না বলে, তখনই তৈরি হবে কোনো মুহূর্ত, বা অনন্তকাল। যেভাবে হারিয়ে যাওয়া কাছের মানুষকে মনে পড়ে, যেভাবে অনেকদিন না গাওয়া প্রিয় গান মনে পড়ে, সেভাবেই। সহজে।




